শিক্ষক আমদানি নয়, নিজ সন্তানদের যোগ্য করে তুলুন!

২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে প্রস্তাবিত বাজেটে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষাখাতে মাত্র ২৯ হাজার ৬২৪ কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপনে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ টিচার্স কাউন্সিল(বিটিসি)। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জনাব মোঃমোমিনুল ইসলাম বলেন, মাননীয় অর্থমন্ত্রী সার্বিক বাজেট উপস্থাপনের যে রূপরেখা তুলে ধরেন তাতে তেমন কোনো অসন্তোষ নেই।তবে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষাখাতে এত কম টাকার বাজেট উপস্থাপন করে মাননীয় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল হাস্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছেন।কেননা তিনি এই বাজেট বরাদ্ধ করে আবার জাপান সম্রাট মেইঝজি`র রূপরেখারও তুলনা করেছেন। তিনি বিদেশ থেকে প্রশিক্ষিত শিক্ষক এনে দেশের শিক্ষা উন্নয়নের কথা বলেও বাংলার শিক্ষক সমাজকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। জনাব মোঃমোমিনুল ইসলাম বলেন,`দেশে প্রচুর প্রশিক্ষিত শিক্ষক আছেন কিন্তু তাঁদের সেই প্রশিক্ষণ প্রয়োগের সুযোগ তৈরি করেনি শিক্ষামন্ত্রণালয়।শিক্ষকদের কখনও কখনও নামমাত্র প্রশিক্ষণও দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।প্রশিক্ষিত সেই শিক্ষকের প্রশিক্ষিণ সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কতটা প্রয়োগ করা সম্ভব হয়েছে তার কোনো খবরই রাখে না শিক্ষামন্ত্রণালয়।এমনকি অনেক প্রতিষ্ঠান প্রধানও সেই প্রশিক্ষিত শিক্ষকদের কাজে লাগান না।আবার যেসব যোগ্য শিক্ষক দেশে আছেন তাঁদেরকে এখন পর্যন্ত ঠিক ঠিক প্রন্থায় খোঁজ করে নিয়োগ দিতে পারেনি শিক্ষামন্ত্রণালয়।দেশে যোগ্য শিক্ষকও আছেন,শিক্ষার্থীরাও আছেন।দরকার তাঁদের খোঁজ করে কাজে লাগানো।`

তিনি মনে করেন,` অপার সম্ভাবনাময় আমার সোনার বাংলাদেশেই প্রচুর যোগ্য শিক্ষক আছেন যারা উন্নত বিশ্বের সকল সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ায় কাঙ্খিত শিক্ষাদান করতে পারছেন না।তাছাড়াও বেশির ভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই নেই প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ বা সরঞ্জাম। সব প্রতিষ্ঠানে নেই আইসিটির পর্যাপ্ত ব্যবহার।ফলে শিক্ষাকার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।`

তিনি আরও বলেন,` শিক্ষা জাতীয়করণ করে একমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা এখন সময়ের দাবী।প্রতিষ্ঠানের কোষাগারের টাকা রাষ্ট্র্রীয় কোষাগারে নিয়ে শিক্ষা জাতীয়করণ করলে সরকারের কোনোই বেগ পেতে হবে না।তবুও কেন কোনো অদৃশ্য শক্তির কাছে বারংবার জাতীয়করণের বিষয়টি আমলে নিচ্ছেন না সরকার তা সত্যিই খুব বেদনাদায়ক।মাত্র ২৯ হাজার ৬২৪ কোটি টাকার বরাদ্ধ দিয়ে মাননীয় অর্থমন্ত্রী জাপান সম্রাট মেইঝজি`র যে অনুকরণের প্রসঙ্গ তুলেছেন তা রীতিমত হাস্যকর।দেশের সোনার ছেলেরা উচ্চ শিক্ষা নিতে বিদেশ গিয়ে আর ফিরে আসছে না।কারণ দেশে তাঁদের উন্নত বিশ্বের সুযোগ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে না।মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক এমনকি বিশ্ববিদ্যালয় স্তরের শিক্ষকদেরকেও উন্নত সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করেনি কোনো শিক্ষামন্ত্রীই।যোগ্য শিক্ষকদের বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে মূল্যায়ণ না করে বিদেশ থেকে শিক্ষক আনার বিষয়টি বিব্রতকর বলেও করি।গত অর্থ বছরে এই খাতে বাজেট বরাদ্ধ ছিলো ২৫ হাজার ৮৮৬ কোটি টাকা যার তুলনায় চলতি অর্থ বছরে বেশি বরাদ্ধ রাখা হয়েছে মাত্র ৩ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকা।অথচ শিক্ষাখাত ব্যতিরেকে যোগাযোগ ও মানব সম্পদ উন্নয়ন খাতে রাখা হয়েছে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্ধ যা উন্নত বিশ্বকেও হার মানায়।সারা বাংলায় যেখানে বিগত বছরগুলোতে সড়কের উন্নয়নের জোয়ার বইছে সেই খাতেই চলতি অর্থ বছরে পুনরায় সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্ধ নিশ্চয়ই জাতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।কারণ সারা বছর জুড়ে শিক্ষকরা রাজপথে নেমে শিক্ষার মানোন্নয়নে আন্দোলন করলেও টনক নড়েনি কারোর।`

তিনি বলেন,`বর্তমান সাংসদদের বেশির ভাগই শিক্ষাখাতে নিয়ে ভাবনা কম।বলতে গেলে এ বিষয়টি তাদের মাথায়ই নেই।নতুবা মহান সংসদে এ বিষয়ে কেন কেউ গুরুত্ব দিয়ে কথা বলেন না?

জাপান সম্রাট মেইঝজি সকল সাংসদ ও সরকারি কর্মচারিদের সন্তানদের নিজ দেশে শিক্ষা গ্রহণ করা বাধ্যতামূলক করেছিলেন কিন্তু আমাদের দেশের কোনো শিক্ষামন্ত্রীই আজও এমন কথা বলার সাহস রাখেননি।যদি তাদের সন্তানেরা নিজ দেশেই সকল শিক্ষা ডিগ্রী নিতেন তবে হয়তো বা তাদের শিক্ষা নিয়ে খুব গুরুত্ব আসতো।সকল সাংসদই নিজ নিজ আসনে বসে মহান সংসদে শিক্ষার উন্নয়নের কথাই সর্বাগ্রে ধ্বনিত করতেন।

মালোয়েশিয়ার প্রতিষ্ঠাতা মাহাথির মোহাম্মদ এখনও বেঁচে আছেন এবং শেষ বয়সে এসেও দেশ পরিচালনা করছেন।তিনিও দেশে সোনার ছেলেদের সারা বিশ্ব থেকে খোঁজ করে বিদেশ থেকে ফিরিয়ে দেশে এনে বিদেশের পারিশ্রমিক দিয়েছিলেন।দেশের সন্তানদের দেশের অভ্যন্তরেই সকল সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করতে বলেছিলেন।এমনি হঠাৎ খুব অসুস্থ্য হয়ে পড়ার পরেও তিনি নিজ দেশেই চিকিৎসা নিয়ে দেশের চিকিৎসা খাতকে করেছিলেন উন্নত যা আজ বিশ্বে রোল মডেল হিসেবে পরিগণিত।আমরা আজও এমনটি করে দেখাতে পারিনি।`

সুতরাং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীকে অনুরোধ করবো, বিদেশ থেকে প্রশিক্ষিত শিক্ষক আমদানি নয়,বিদেশ থেকে দেশের যোগ্য সন্তানদেরকেই দেশে ফিরিয়ে এনে এবং দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণ করে তাঁদের উন্নত বিশ্বের সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করুন।তাহলেই এদেশের শিক্ষকরা উন্নত বিশ্বের চেয়েও বেশি যোগ্য হিসেবে প্রমাণ দিতে পারবেন।

মোঃমোমিনুল ইসলাম
সাধারণ সম্পাদক
বাংলাদেশ টিচার্স কাউন্সিল(বিটিসি)।

Check Also

ফুড কর্নার না বৃক্ষরাজি কোনটা জরুরি?

রাজধানী ঢাকার জনসংখ্যা বেড়েছে এবং বাড়ছে। ঘরবাড়ির সংখ্যাও বেড়েছে। বেড়ছে দূষণ। বাড়ছে তাপমাত্রা। বাড়ছে মিথেনের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *