বহিষ্কারের প্রায় দুই বছরেও বোর্ডের প্রতিবেদন পাননি উইলসের শিক্ষিকা

রাজধানীর রমনার খ্যাতনামা উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রভাতী শাখার ইংরেজি মাধ্যমের প্রধান নাজমা হোসেন লাকীকে স্থায়ী বহিষ্কারের পর ঢাকা শিক্ষা বোর্ড এর বিধি মোতবেক তদন্ত শেষে বোর্ড কর্তৃক আপিল এন্ড আরবিট্রেশন কমিটির  প্রতিদেন মেলেনি প্রায় দুই বছরেও ফলে ১৮ বছর সুনামের সঙ্গে চাকরি করা নাজমা হোসেন লাকী হতাশায় রয়েছেন ন্যায় বিচার পাওয়া ও যোগনাদ করতে না পারায়। তবে শিক্ষা বোর্ডের দায়িত্বশীল সুত্র বলছে চলমান কভিড পরিস্থিতি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় প্রতিবেদন দিতে কালক্ষেপণ হলেও দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবুল হোসেন ও গভর্নিং বডির সভাপতি আরিফুর রহমান টিটুর বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতি অভিযোগ আনায় ২০১৫ সালে কলেজে জন্মদিন পালন ও এক শিক্ষককে লাঞ্চিত করার শোকজ নোটিশ এবং প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের অভিযোগ এনে প্রথমে দুই মাস সাময়িক বরখাস্থ ও পরবর্তীতে স্থায়ী বহিষ্কার করা হয়। স্থায়ী বহিস্কারের পর ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের তদন্ত শেষে ও দুই দফা আপিল এন্ড আরবিট্রেশন কমিটির সভা শেষ হলেও এখনও প্রতিবেদন দেয়নি শিক্ষা বোর্ড।

জানা গেছে, পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও তার সহযোগীদের স্বেচ্ছাচারিতার প্রতিবাদ করায় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়ায় কলেজের প্রভাতী শাখার ইংরেজি মাধ্যমের প্রধান নাজমা হোসেন লাকীকে  ৭ আগস্ট ২০১৯ এ দুই মাসের জন্য বরখাস্ত করা হয়। দুই মাস পর তিনি যোগদানের জন্য কলেজে গেলে তাকে কলেজে প্রবেশ বাঁধা দেওয়া হয়। এরপর গত ২৪ সেপ্টেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে পরিচালনা পর্ষদের নানা অনিয়ম তুলে ধরে জাতীয় প্রেসক্লাবে একটি সংবাদ সম্মেলন করেন নাজমা হোসেন লাকী। আর এই সংবাদ সম্মেলন করায় যেন কাল তার জন্য। এরপরই ১৩ অক্টোবর ২০১৯ এ তাকে স্থায়ী বহিষ্কার করে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

পরিচালনা পর্ষদের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পর্যন্ত লিখিত অভিযোগ করার পরও কোন প্রতিকার পাননি লাকী।

লাকী জানান, এখন পর্যন্ত ১৪ শিক্ষক-কর্মচারীকে বরখাস্ত করেছেন বর্তমান সভাপতি। তাদের মধ্যে ১২ জনের কাছ থেকে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা নিয়ে পুনর্বহাল করা হয়েছে।  স্কুলের প্রাথমিক শাখায় ‘যোগ্যতাহীন’ ৩০ জন শিক্ষককে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ তুলে লাকী বলেন, ‘তারা সব এইচএসসি পাস।’ টিটু প্রাথমিক শাখায় তার ভাইয়ের মেয়েকে শিক্ষক হিসেবে ‘অবৈধ নিয়োগ’ দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

১১ নভেম্বর ২০১৯ সালে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের আপিল এন্ড আরবিট্রেশন কমিটির সভায় শুনানি শেষে স্থায়ী বহিষ্কারের বিষয়ে চুড়ান্ত সিধান্ত জানানোর কথা থাকলেও দুই  সভা অনুষ্ঠিত হলেও চুড়ান্ত প্রতিবেদন প্রায় দুই বছর অতিবাহিত হলেও আজ পর্যন্ত কেন দেওয়া হয়নি এ বিষয়ে জানতে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে যোগাযোগ করা হলে সংশ্লিষ্ট শাখার দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ  না করার শর্তে বলেন, চলমান কভিড পরিস্থিতি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় প্রতিবেদন দিতে কালক্ষেপণ হলেও দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

তবে এ বিষয়ে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নেহাল আহমেদ এর সঙ্গে যোগাযোগ করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবুল হোসেন, বিষয়টি শুনে এবং সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে মুঠোফোনের লাইনটি কেটে দেন।

Check Also

পাংশায় হত্যা মামলার আসামীও চেয়ারম্যান প্রার্থী

আগামী ডিসেম্বর ২০২১ এর মধ্যে সকল প্রকার নির্বাচন সম্পন্ন করার ঘোষণা দিয়েছেন নির্বাচন কমিশন। এ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *