বন্ড চোরাকারবারী করে কোটি টাকার মালিক যুবক

শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাপড় আমদানি করে খোলাবাজারে বিক্রির মাধ্যমে ও রপ্তানিমুখী গার্মেন্টের জন্য শতভাগ শুল্কমুক্ত সুবিধায় আনা কাপড়ের বেশির ভাগ খোলাবাজারে বিক্রি করে রাতারাতি আঙুল ফুলে কলাগাছ বনে  গেছেন রাজধানীর পুরান ঢাকার ইসলামপুরের বন্ড চোরাকারবারী এক সময়ের বাংলা ব্যবসায়ী (দেশীয় কাপড়) রাজীব ইসলাম ওরফে ভাগিনা রাজিব। এখন তিনি শতকোটি টাকার মালিক বনে গেছেন।

অঢেল টাকার জোরে সমাজের প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে রয়েছে তার গভীর সখ্য। এ কারণে ডিবি পুলিশের তালিকায় শীর্ষ বন্ড চোরাকারবারীর তালিকায় তার নাম থাকলেও তিনি রয়েছেন ধোরা ছোয়ার বাইরে।

জানা গেছে, রপ্তানিমুখী গার্মেন্টের জন্য শতভাগ শুল্কমুক্ত সুবিধায় আনা কাপড়ের বেশির ভাগ বিক্রি করে দেওয়া হয় খোলাবাজারে। শুল্কমুক্ত সুবিধার কারণে বাজারমূল্যের চেয়ে অনেক কমে বিক্রি করেও বিপুল অঙ্কের লাভ পাওয়া যায়। এ কারণে অনেক ভালো ব্যবসায়ীদের সুনাম যেমন নষ্ট হচ্ছে, তেমনি তারা সৎভাবে ব্যবসা করে মার খাচ্ছেন।

মাত্র ২৯ বছর বয়সী রাজীব ইসলাম এই বন্ড চোরাকারবারী করে চড়েন কোটি টাকার গাড়িতে এবং তার রয়েছে নিজস্ব আলীশান একাধিক বাড়ী। রাজিব চীন থেকে আমদানিকৃত বন্ড সুবিধার কাপড় খোলাবাজারে বিক্রি করে দিচ্ছেন এটাই তার এখন প্রধান ব্যবসা। এছাড়াও প্তানিমুখী গার্মেন্টের জন্য শতভাগ শুল্কমুক্ত সুবিধায় আনা কাপড়ের বেশির ভাগ খোলাবাজারে বিক্রি করছেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে রাজীব ইসলাম বলেন, আমি বন্ড চোরাকারবারির সাথে জড়িত নই। আমাকে হেয় করার জন্য এমনটা বলা হচ্ছে।

শুধু রাজীব ইসলামই নন রয়েছে প্রথম সারির অন্তত ৩০ জন বন্ড চোরাকারবারি। অঢেল টাকার জোরে সমাজের প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে  গভীর সখ্যতার কারণে এরা ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন।

চোরাই কাপড় বিক্রির প্রধান আখড়া পুরান ঢাকার  ইসলামপুর হাট। সরেজমিন দেখা যায়, ইসলামপুরে শত শত দোকানে ঠাসা দেশি-বিদেশি কাপড়। কোনটা সাধারণ আর কোনটা চোরাই, তার পার্থক্য করা কেবল দুষ্করই নয়, অসম্ভব বটে। কারণ ইসলামপুরে ঢুকলেই চোরাই কাপড়ে বৈধতার সিল পড়ে। অর্থাৎ বৈধভাবে আমদানি করার জাল কাগজপত্র সব সময় প্রস্তুত করা থাকে। তবে এখানে চোরাকারবার চলছে অনেকটা ওপেন সিক্রেট স্টাইলে। বিস্তৃত কাপড় বাজার ঘিরে সক্রিয় শত সহস চোরাকারবারি। রাত গভীর হলে একের পর এক আসতে থাকে চোরাই কাপড় ভর্তি ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও লরি। টর্চের স্বল্প আলোয় লোড-আনলোডের কাজ শেষ হয়। এক বা দুদিন নয়, রীতিমতো বছরের পর বছর ধরে চলছে এ অনিয়ম। মনিটরিংয়ের দায়িত্ব যাদের-তারা বসে আছেন হাত গুটিয়ে। আবার মাসোহারায় ম্যানেজ হয়েছেন অনেকে।

সম্প্রতি এক অভিযানে কোটি টাকা মূল্যের বন্ড কাপড় ধরা পড়ে গোয়েন্দা পুলিশের হাতে। অনস্পট গ্রেফতার করা হয় ১১ জনকে। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের লালবাগ বিভাগ এ অভিযান চালায়। গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে ইসলামপুর এলাকার শীর্ষ বন্ড চোরাকারবারিদের নাম বেরিয়ে আসে। যাদের গ্রেফতার করতে পুলিশ প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এমনটি জানিয়েছে দায়িত্বশীল সূত্র।

এ বিষয়ে ডিবির উপকমিশনার রাজিব আল মাসুদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বন্ড কাপড় চোরাকারবারিদের গ্রেফতার করা ডিবির নিয়মিত কাজের মধ্যে পড়ে না। এজন্য বন্ড কমিশনারেট বা শুল্ক গোয়েন্দার মতো পৃথক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। কিন্তু তথ্য-প্রমাণসহ চোরাকারবারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এলে বিষয়টি উপেক্ষা করাও সম্ভব হয় না। কারণ এভাবে শুল্কমুক্ত কাপড় খোলাবাজারে বিক্রির ফলে রপ্তানিমুখী শিল্পগুলো ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। গোয়েন্দা পুলিশ বন্ড চোরাকারবারের গডফাদারদের নিয়ে কাজ শুরু করেছে। শিগগিরই এ বিষয়ে আরও গভীরে গিয়ে অভিযান চালানো হবে।’

Check Also

পাংশায় হত্যা মামলার আসামীও চেয়ারম্যান প্রার্থী

আগামী ডিসেম্বর ২০২১ এর মধ্যে সকল প্রকার নির্বাচন সম্পন্ন করার ঘোষণা দিয়েছেন নির্বাচন কমিশন। এ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *